Section A
Q1. নিয়লিখিত যে কোনো একটি বিষয়ে 600 শব্দের প্রবক্ষ রচনা করুন : 100 গণতন্ত্রে বিচারবাবস্থার ভূমিকা
(a) পরিবেশ ও স্বনির্ভরতা
(b) বিশ্বায়নে ভাষার ভূমিকা
(c) ভারতীয় অর্থনীতি ও তার প্রত্যাহ্বান (চ্যালেঞ্জ)
(d) 2. নিয়লিখিত গদ্যাংশটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন এবং যে-সকল প্রশ্ন পরে করা হয়েছে তার উত্তর সংক্ষেপে, স্পষ্ট ও 12×5 = 60 শুদ্ধ ভাষায় লিখুন : গান্ধীজীর প্রতি বিশ্বের আকর্ষণের কারণ হল তিনি আত্মশক্তির অস্ত্রকে পাশবিক শক্তির বিরুদ্ধে প্রচার করেন এবং সত্যাগ্রহকে ট্যাঙ্ক ও মেশিনগানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেন। তবুও এটা ভাবনার বিষয় যে, কেন তিনি অহিংসার সাহায্য নেন ? তার কারণ, হিংসার সাহায্যে তিনি ভারতকে ব্রিটিশের অধীনতা থেকে মুক্ত করতে পারেননি অথবা তার কারণ হল তিনি মানব সমাজকে এই বাৰ্তা দিতে চেয়েছিলেন যে মানুষ যতক্ষণ পশু-প্ৰবৃত্তি ব্যবহার করে ততক্ষণ তাকে মানুষ বলা যায় না। প্রথম বিষয়টি এটাই প্রমাণ করে যে অহিংসা হল দুর্বল ও অসহায় বাক্তির অন্ত্র। অর্থাৎ আমাদের কাছে যখন ট্যাঙ্ক থাকে না, তখন আমরা অহিংসাকে স্বীকার করি। কিন্তু দ্বিতীয় বিষয়টি অহিংসাকে মানব উন্নয়নের উৎসরূপে গুরুত্ব দিতে চায়। এটা তাকে পবিত্র হতে সাহায্য করে। বস্তুত ভারতীয়রা যখন গান্ধীজীর নেতৃত্বে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করছিল তাদের অনেকেই মনে করত যে, তথন অহিংসাই একমাত্র গ্রহণযোগ্য অন্ত্র কারণ হিংসার অন্ত্র নিয়ে ব্রিটিশের মোকাবিলা করার মতো সুযোগ বা শক্তি কোনোটাই আমাদের ছিল না। অহিংসা বাতিরেকে ভারতকে স্বাধীন করার বিষয়ে তিনি সহমত পোষণ করতেন না। ভারতের স্বাধীনতা লাভ ছিন্স একট্য বড় লক্ষ্য কিন্তু বৃহত্তর লক্ষ্য ছিল মানুষের স্বভাব এবং বিচারবুদ্ধির পরিবর্তন। তিনি চেয়েছিলেন যে, মানুষ এটাই বিশ্বাস করুক যে লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা তিনি নিষ্টুর অস্ত্রের দ্বারা করেছেন তা মানবিক মুল্যবোধের দ্বারা করা সম্ভব। গান্ধীজীর মূল উদ্দেশ্য ছিল শুধু দেশের লোকের বেদনা দূর করা নয়, মানুষের মধ্যে পশু-প্রবৃত্তির বিরোধিতাও ছিল লক্ষ্য। ঘৃণা, ক্রোধ এবং রোষ- এসবই কেবলমাত্র পশুর মধ্যেই দেখা যায় এবং প্রবৃত্তির দ্বারা তারা তাদের প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করে। কিন্তু মানুষ পশুদের থেকে আলাদা এবং সে জনা তার পক্ষে এটাই সঠিক যে প্রবৃত্তিকে সে নিয়ন্ত্রণ করবে এবং এই সব প্রাপ্ত উপাদানের সাহায্যে প্রাজাহিক জীবনের সমস্যার সমাধান করবে যা পশুর পক্ষে সম্ভব নয়। এখন প্রশ্ন, কেন গান্ধীজী এই পথ বেছে নিলেন ? ভারতের অহিংসার এই পথ অন্য দেশে নেই কেন ? অনেকেই প্ৰশ্নটা এই বলে এডিয়ে যেতে চাইবেন যে, এটা একটা নিছক হঠাৎ ঘটে যাওয়া ব্যাপার। বলা হয় যে অহিংসার ধারণা ও আইন অমান্য একযোগে যুক্ত। আমেরিকার চিন্তাবিদ থেরু এবং রাশিয়ার সন্ত সাহিত্যিক টলস্টয়ও এই বিষয়ে আলোকিত ছিলেন। গান্ধীজীও তাঁদের ভাবনার সঙ্গে পরিচিত ছিলেন। এই ভারতেই অরবিন্দও গান্ধীজীর আগে আইন অমান্য ও অসহযোগ বিষয়ে ইঙ্গিত করেন। তবুও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ওঠে, ভারতেই কেন প্রথম এই ধারণার রূপ প্রকাশ পায় ? উত্তরটি স্পষ্ট যে আত্মশক্তি, শারীরিক শক্তির তুলনায় উৎকৃষ্ট। এবং এই সত্য অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতের জনগণই বেশি উপলব্ধি করেছে। যখন থেক, টলস্টয়, এমার্সন ও রোমাঁ রোলা তাঁদের ধারণা বাক্ত করেন, তখন ভারতীয় দর্শন এর পিছনে অনুষ্টকের কাজ করে। তথন একজনই সেই চিন্তাকে তুঁতে পারলেন যিনি ভারতীয় আদর্শে, ভারতীয় চিন্তাধারায়, ভারতীয় প্রকৃতি অনুযায়ী আগুয়ান হলেন। থেক বা টলস্টয়ের ক্ষেত্রে এইসব বিষয়গুলি ছিল। একমাত্র অরবিন্দের মতো ভারতীয়ের ক্ষেত্রে সেই চিন্তার প্রস্ফুটন দেখা যায়। \mathbf 2 E67-C-BN6E/31