Section A
Q1. নিয়লিখিত যে কোনো একটি বিষয়ে 600 শব্দে প্ৰবন্ধ রচনা করুন: 100 প্রযুক্তির অত্যধিক প্রয়োগের কারণে সৃষ্ট বিপদ
(a) ধর্মনিরপেক্ষতা গণতন্ত্রের শক্তি
(b) নোটবন্দির (Demonetization) ফলে ভারতীয় অর্থব্যবস্থায় দীর্ঘকালীন লাভ
(c) আয়ুর্বেদ পদ্ধতির প্রতি পাশ্চাত্যের দেশগুলির আকর্ষণ
(d) 2. নিয়লিখিত গদ্যাংশটি মনোযোগপূর্বক পড়ুন এবং যে-সকল প্রশ্ন পরে করা হয়েছে তার উত্তর সংক্ষেপে, স্পষ্ট ও শুদ্ধ ভাষায় লিখুন : 12×5 = 60 মস্তিষ্কের শ্রেষ্ঠ খাদ্য হল গ্রন্থ। একজন চিন্তাশীল ব্যক্তির মন্তব্য হল, মানবজাতির যা কিছু ভাবনা, কাজকর্ম বা প্রাপ্তি, তার সব কিছুই গ্রন্থে সংরক্ষিত আছে। মানব-সভ্যতা ও সংস্কৃতির সম্পূর্ণ বিকাশের মূলে আছে গ্রন্থ। গ্রন্থের গুরুত্ব ও মূল্য অপরিসীম। গ্রন্থ মানুষের মনকে উদ্ভাসিত-উজ্জ্বলিত করে। ভালো গ্রন্থ মানুষকে পশুত্ব থেকে দেবত্বের দিকে নিয়ে যায়, মানুষের সাত্ত্বিক বৃত্তিগুলি জাগ্রত করে তাকে পথভ্রষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে এবং মানুষ, সমাজ ও রাষ্ট্রের পথপ্রদর্শক হয়। আমাদের হৃদয় ও মস্তিষ্কে গ্রন্থের স্বায়ী প্রভাব পড়ে এবং গ্রন্থ প্রেরণাদায়ক হয়ে থাকে। মনোরঞ্জনের ক্ষেত্রেও গ্রন্থ মানুষের সেবাসাধন করে থাকে। মনোরঞ্জনের তাৎপর্য এখানে কেবল হাসি-ঠাট্টা নয়, বরং তার তাৎপর্য অনেক গভীর। যে গ্রন্থ পাঠকের মনকে গভীরভাবে স্পর্শ করে এবং তাদের হৃদয়কে অধিকার করে নেয়, সেগুলি প্রকৃতপক্ষে বিনোদনমূলক গ্রন্থ। যে সব গ্রন্থ পাঠককে যত গভীর অর্থের ব্যঞ্জনা দেয়, সে গ্রন্থ ততই আনন্দদায়ক হয়ে থাকে। সে অর্থে লঘুসাহিত্যের গুরুত্বও কম নয়। এমন সাহিত্য মানুষের মনের কঠিন চাপকেও অনেকখানি কম করে এবং তার স্তিমিত মনকে আনন্দদায়ক করে তোলে। ভালো গ্রন্থ মানুষকে জ্ঞান এবং মনোরঞ্জন দেয়। বিজ্ঞান, বাণিজ্য, কলা আর আইনের গ্রন্থাদি মানুষের জ্ঞান বৃদ্ধি ঘটায়। এগুলি পাঠ করে মানুষের নিজের অন্তর্নিহিত শক্তির অনুভূতি জাগে। সত্যি কথা এই যে, গ্রন্থ আমাদের প্রকৃত পথপ্রদর্শক। গ্রন্থ আমাদের কত নব-নব ক্ষেত্রের এবং কত বোধাতীত রহস্যের সঙ্গে পরিচিতি ঘটায়, সেই সঙ্গে চিন্তন ও মননের জন্যও আমাদের বাধ্য করে। গ্রন্থ মানুষের দ্বিধা দূর করে মনে দৃঢ় সংকল্প জাগায়। গান্ধীজি ‘গীতা'কে মায়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন কারণ প্রত্যেক কঠিন পরিস্থিতিতে এই গ্রন্থ তাঁকে পথ দেখিয়েছে। গ্রন্থ এমনই পথপ্রদর্শক যে শাস্তি দেয় না, ক্রোধ করে না, প্রতিদানে কিছু চায়ও না, কিন্তু সেই সঙ্গে সে নিজের অমৃততত্ত্ব প্রদানে কোনো কার্পণ্য করে না । গ্রন্থ মানুষকে প্রকৃত সুখ, আনন্দ ও শান্তি দিয়ে থাকে। গ্রন্থপ্রেমী সর্বাধিক সুখী, আশীর্বাদধন্য মানুষ। তারা জীবনে কখনও শূন্যতা অনুভব করে না। গ্রছের উপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করা যায়। বিচারমূলক তর্কযুদ্ধে গ্রন্থই একমাত্র অস্ত্র। গ্রন্থে নিহিত মতবিচার সম্পূর্ণ সমাজের পরিবর্তন করার সামর্থ্য রাখে। বর্তমানের বিশ্ব হল ভাবনামূলক বিশ্ব। সমাজের সমস্ত পরিবর্তন বা বিপ্লবের উৎস হল আদর্শ বিচারধারা। শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ সমাজে নবচেতনার সঞ্চার করে এবং সমাজে জনজাগৃতি জাগাতে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। গ্রন্থ পাঠের ফলে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে আসে উদারতা ও ব্যাপকতা এবং তাদের মনে উদাত্ত ভাবনাও সঞ্চারিত হয়। গ্রন্থ সেই অমর সম্পদ যা বিগত প্রজন্মের অনুভবকে যথার্থরূপে আগামী প্রজন্ম পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দেয়। গ্রন্থের অন্তর্নিহিত জ্ঞানকে কেউ নষ্ট করতে পারে না। সংক্ষেপে গ্রছের গুরুত্ব বা মূল্য অপরিসীম। প্ৰশ্নাবলী: গ্রন্থের মূল্য অপরিসীম কেন বলা হয়েছে?
(a) 'মনোরঞ্জনের গভীরতা' সম্পর্কে লেখকের অভিপ্রায় কী, লিখুন।
(b) SUH-0-BN6L/25 2