Section A
Q1. নিয়লিখিত যে কোনো একটি বিষয়ে 600 শব্দের প্রবন্ধ রচনা করুন: 100
(a) শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির সমস্যা বিশ্ব-শান্তির সঙ্কট
(b) মাতৃভাষা ও প্ৰাথমিক শিক্ষা
(c) ‘সারোগেসি’(Surrogacy)-র সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা
(d) 2. নিম্নলিখিত গদ্যাংশটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন এবং যে-সকল প্রশ্ন পরে করা হয়েছে তার উত্তর সংক্ষেপে, স্পষ্ট ও শুদ্ধ ভাষায় লিখুন : 12×5 = 60 প্রাচীন ভারতে রাজতন্ত্র এত শক্তিশালী ছিল যে রাজাকে রাজ্যের আত্মা বলা হত। প্রাচীন ধর্মীয় শাস্ত্রগুলির মতে রাজা তাঁর প্রজাদের দৈব প্রতিনিধি, যাতে প্রজারা নিজেদের জীবনের অসুখী অবস্থা থেকে রাজার সাহায্যে মুক্তি পেতে পারে। রাজাবিহীন সমাজ দুঃখময়। প্রাচীন পণ্ডিতগণ অনেক সময় রাজা বা রাজত্বের উদ্ভব সম্পর্কে তাঁদের মত প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতগুলি বিভিন্ন সময়ে দৈবনীতি, ক্ষমতার নীতি, সুরক্ষার নীতি, সামাজিক চুক্তি ইত্যাদির পরিপ্রেক্ষিতে দাখিল করা হয়েছে। কৌটিলা রাজ্যকে প্রয়োজনীয়, গুরুত্বপূর্ণ এবং কল্যাণকামী প্রতিষ্ঠান মনে করতেন। তিনি রাজার উদ্ভবের বিভিন্ন ধাপগুলি আলোচনা করেননি, কিন্তু তাঁর ‘অর্থশাস্ত্র’ গ্রন্থে তিনি খুব স্পষ্টভাবে বলেছেন যে বড় মাছ যেমন ছোট মাছকে গিলে ফেলে, তেমনি প্রাচীনকালে সবলরা দুর্বলদের পীড়ন করতেন। লোকেরা অন্যায়ভাবে অত্যাচারিত হ'ত- মাৎসান্যায়, অর্থাৎ মাছের নীতি বা ভিন্ন ভাষায় জঙ্গলের নীতিতে। উৎপীড়িত মানুষেরা যৌথভাবে একজন সবল লোককে তাদের রাজা হিসেবে মেনে নিত। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, তাদের ফসলের এক-ষষ্ঠাংশ এবং বাণিজ্য থেকে প্রাপ্ত আয়ের এক-দশমাংশ রাজাকে দেবে। বিনিময়ে রাজা তাঁর প্রজাদের কল্যাণের দায়িত্ব গ্রহণ করতেন। যে প্রজারা রাজার এই অনুশাসন মেনে নিত না, রাজা তাদের শাস্তি দিতেন। ইন্দ্র বা যমের মতো রাজাও প্রজাদের রক্ষক এবং হিতৈষী হিসেবে গণ্য হতেন। কৌটিল্যের মতে রাজাকে অমান্য বা অপমান করা নিষিদ্ধ। মানুষ সেই সমাজেই নিজের বাড়ির দরজা খোলা রেখে ঘোরাফেরা করতে পারে, যেখানে রাজা তাঁর প্রজার সুরক্ষার বন্দোবস্ত করেন। যখন রাজা রক্ষা করেন তখন নারীগণ অলঙ্কার পরে একাকী পথে বের হ’তে পারে। যে সমাজ রাজার দ্বারা সুরক্ষিত, সেখানে মানবতার নীতি বিরাজ করে। সেরকম একটি রাজ্য সব দিক দিয়ে উন্নতি লাভ করে। এই সত্যটি কৌটিল্যের ‘অর্থশাস্ত্র’ এবং প্রাচীন অন্যান্য গ্রন্থেও ঘোষিত হয়েছে। পূর্বকালে রাজার অবস্থান স্থায়ী ছিল না, তাঁর ক্ষমতাও বল্পাহীন ছিল না। কিন্তু বৈদিক যুগের পরে রাজ্যের সীমা যতই বৃদ্ধি পেতে লাগলো, রাজার অধিকার ও গরিমাও ততই বৃদ্ধি পেয়েছিল। ক্রমশ প্রজার সুরক্ষার চেয়ে রাজার সুরক্ষার দিকটি বেশি মনোযোগ পেতে থাকল। রাজার সম্মান ও অবস্থানের অনুপাত অনুযায়ী তাঁর গরিমা, জাঁকজমক ও ঐশ্বর্য প্রদর্শন বেড়ে গেল। এই বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা শুক্র রচিত নীতিগুলিতে পাওয়া যায়।
(a) প্রাচীন ভারতে রাজা ও রাজ্য সম্পর্কে কী ধারণা প্রচলিত ছিল? ‘মাৎস্যন্যায়’কে কেন অন্যায় অভিহিত করা হয় ?
(b) কোন নিয়মের ভিত্তিতে রাজা এবং প্রজার পারস্পরিক সম্পর্ক রচিত হয়?
(c) 'মানবতার নীতি' কথাটির অর্থ কী?
(d) উত্তর-বৈদিক যুগে প্রজার অবস্থার কী পরিবর্তন ঘটেছিল?
(e) HXS-C-BNGL/26 2